পালিয়ে বিয়ে করার আইনী উপায়। ইসলামী বিধান কি?
হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, “ভালোলাগা এমন এক জিনিস যা একবার শুরু হলে সব কিছুই ভালো লাগতে থাকে।” সমাজকে ফাঁকি দিয়ে, পিতামাতাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করা অনেক আগে থেকেই একটি প্রচলিত বিষয়। আজকে আলোচনা করব পালিয়ে বিয়ে করার আইনগত পরিণতি সম্বন্ধে।
ইসলামী বিধান
ইসলামে একজন পুরুষ প্রাপ্তবয়স্ক হলেই সে পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করতে পারে। তবে একজন মহিলা বিয়ে করতে গেলে তাকে অলি লাগবে অর্থাৎ অভিভাবক লাগবেই। কারণ মহানবী স. বলেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১১০১। এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে বিশুদ্ধ মত হল মহিলাদের অভিভাবক লাগবেই বিস্তারিত দেখুন।
বিয়ে কোথায় করবেন?
অনেক সময় বিয়ে করতে গিয়ে তাড়াহুড়া করে কোর্ট ম্যারেজ করে ফেলে। আসলে কোর্ট ম্যারেজ আইনি কোন পরিভাষা নয়। এটি লোকের মুখে প্রচলিত একটি ভাষা যার কোন আইনি স্বীকৃতি নেই। এ সংক্রান্ত জানতে করতে পারেন-কোর্ট ম্যারেজ কী?
আপনাকে বিয়ে করতে হলে কাজী অফিস গিয়েই বিয়ে করতে হবে এবং এটাই সম্পূর্ণনিরাপদ। বিয়ে হওয়ার পর একটি কাবিননামা আপনার কাছে রাখবেন। পরবর্তীতে এই কাবিননামায় আপনার বিয়ের একমাত্র অকাট্য প্রমাণ। তবে বিয়ে করে হলফনামা দিয়ে রাখলে (কোর্ট ম্যারেজ) সেটা প্রমাণের জন্য ভালো হয়।
দেনমোহর কত করবেন ?
মনে রাখবেন আপনার দেনমোহর একটি অধিকার। এই দেনমোহর আবেগের বশেই কম করে ফেলেন। ছেলে আপনাকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে দেনমোহর কমাতে বাধ্য করে। আসলে আপনি জানেন না, এর পরবর্তীতে কি রকম জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই যথাযথ দেনমোহর নির্ধারণ করুন।
বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি
দেনমোহর চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে প্রতি হাজারে ১২.৫০ টাকা দিতে হবে। চার লাখ টাকার উপরে হলে প্রতি লাখে ১০০ টাকা দিতে হবে। সর্বনিম্ন ফ্রি ২০০ টাকা।
ধরুন, আপনার আপনার মোহরানা ৫০ হাজার টাকা হলে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে ৫০ x১২.৫=৬২৫ টাকা। বিস্তারিত দেখুন এখানে
এই ফি প্রদান করবে বরপক্ষ।
অপহরণ মামলা
পালিয়ে যাওয়া বিয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় মেয়ের অভিভাবক অপহরণ মামলা দিয়ে থাকেন। মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলে এই অপহরণ মামলা টিকে না। কারণ বাংলাদেশে সম্মতি দানের বয়স ১৮ বছর। কিন্তু মেয়ের বয়স যদি ১৮ এর নিচে হয় সেক্ষেত্রে ছেলেকে আইনি ঝামেলা পোহাতে হয়। আবার মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ার কারণে মেয়েকে নিরাপদ হেফাজতে থাকতে হয়।
যা করণীয়
আবেগে ভালোবেসে বিয়ে করতে গিয়ে পরবর্তীতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন- ছেলে কোন খারাপ উদ্দেশ্যেই আপনাকে বিয়ে করেছে, সম্পত্তির লোভে, জাস্ট আপনাকে ব্যবহার করে তালাক দিয়ে দেবে এরকম উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সুতরাং বিয়ের আগে এসব বিষয় খুব খেয়াল রাখা উচিত।
আজকে যে মানুষটিকে আপনি অন্ধের মত ভালবাসছেন। তার হাত ধরে অজানা পথে পাড়ি দিতে যাচ্ছেন। কালকে সে আপনার আপন নাও হতে পারে। এজন্য বিয়ের কাবিননামা রাখা জরুরী। নইলে পরবর্তীতে গর্ভধারণ হলে আপনাকে সমাজে বয়ে বেড়াতে হবে অপমান আর লাঞ্ছনা।
দেখতে পারেন---
অ্যাপ্রেন্টিস লইয়ার,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা।
অ্যাডভোকেট,
ঢাকা ও নীলফামারী জেলা জজ আদালত।
Whatsapp: +8801786792732
-------------------------------------------------------------------------
[আইন বিষয়ক আলোচনার উদ্দেশ্য সাধারণ পাঠকদের অবহিত করা যা উকিল পরামর্শের বিকল্প না। আইন সংক্রান্ত সমস্যা জন্য সরাসরি আইনজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত]


No comments
Post a Comment