স্বামী বিয়ে অস্বীকার করলে আইনী প্রতিকার

বিয়ে একটি  পবিত্র বন্ধন এবং সামাজিক স্বীকৃতি। প্রেম ভালোবাসায় এ বন্ধন ঠিকে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত আইন না মেনে, সমাজকে উপেক্ষা করে যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত হুজুর ডেকে এনে গোপনে বিবাহ দেয়া হয় বা বিবাহ না সম্পাদন করেই স্বামী স্ত্রীর মত বসবাস করে। পরবর্তীতে স্ত্রী গর্ভবতী হলে স্বামী তাকে আর মেনে নিতে চায় না।এভাবেই মূলত আইনী ঝামেলার সৃষ্টি হয়।


বিয়ে রেজিস্ট্রেশন কেন বাধ্যতামূলক?

মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী  বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার  ৩০ দিনের মধ্যেই বিবাহ নিবন্ধন করতে হবে।  এ বিবাহ যেভাবেই সম্পন্ন হোক না কেন? কোর্ট ম্যারেজ, গোপনে বিবাহ, পালিয়ে বিবাহ যাই হোক না কেন। সাধারনত বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না হলে বিবাহ প্রমাণ করা কঠিন। আর বিবাহ নিবন্ধন না  করলে  দুই বছর বিনাশ্রম  কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত  জরিমানা।

 বিয়ে প্রমাণ করবেন কিভাবে?

আগেই বলেছি বিবাহ প্রমাণের প্রধান দলিল হল কাবিননামা।  বিয়ের কাবিননামা না থাকলে এটা খুবই দুষ্কর  মামলা প্রমাণ করা।  তবে  পারিপার্শ্বিক  সাক্ষ্য নামে সাক্ষ্য  আইন একটি কথা আছে  যার মূল কথা হলো  যদি কোন  ঘটনা দলিল  বা অন্য কাউকে প্রকাশ করার না যায় তাহলে পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্য বিবেচনা করে সেটা প্রমাণ করা যেতে পারে।
যেমন- আপনারা যখন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেছিলেন  আপনাদের প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজন সেটা জানত।   আপনাদের সেই প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনকে সাক্ষী বানাতে পারেন।  অথবা   আপনাদের স্বামী স্ত্রী হিসেবে কোন ছবি যদি তোলা থাকে সেই ছবিটি স্বাক্ষ্য  হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। অথবা কোন ভিডিও বা অন্য কোন যেকোন প্রমাণ আপনি হাজির করতে পারবেন।

আইনি প্রতিকার

 বিয়ে অস্বীকার করলে আপনি দন্ডবিধির আশ্রয় নিতে পারেন।  দন্ডবিধির  ৪৯৩ ধারা অনুযায়ী, বিবাহিত নয়   এমন কোন ব্যক্তি যদি  বিশ্বাস করান যে তিনি তার সাথে বিবাহিত  তাহলে তিনি দশ বছরের সাশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা জরিমানা দন্ডে দণ্ডিত হবেন।



মো. নুর আলম (রাজু)
 অ্যাপ্রেন্টিস লইয়ার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা। 
অ্যাডভোকেট, ঢাকা ও নীলফামারী জেলা জজ আদালত। 
Whatsapp: +8801786792732


 ------------------------------------------------------------------------- 
[আইন বিষয়ক আলোচনার উদ্দেশ্য সাধারণ পাঠকদের অবহিত করা যা উকিল পরামর্শের বিকল্প না। আইন সংক্রান্ত সমস্যা জন্য সরাসরি আইনজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত]

No comments

Powered by Blogger.