খুন কাকে বলে? অপরাধমূলক নরহত্যা কাকে বলে? খুন ও অপরাধমূলক নরহত্যার পার্থক্য? খুনি যখন নিজেকে নির্দোষ পারে?
খুন করার আগে চলুন খুন কাকে বলেসেটা জেনে নেই!!!!খুন করতে যাইয়েন কিন্তু!!!
খুন কাকে বলে?
দণ্ডবিধি অনুসারে, মানুষের জিবননাশ দু্ই ধরনের হতে পারে। একটি অপরাধমূলক নরহত্যা আর একটি খুন। এ দুইয়ের মধ্যে আছে সুক্ষাতিসুক্ষ পার্থক্য। তবে প্রধান পার্থক্য এই যে খুনের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন (৩০২ ধারা, প্রায়শই বাংলা মুভিতে শুনে থাকবেন ৩০২ অনুসারে আসামি.... কে ফাসির আদেশ দেওয়া হল) আর অপরাধ মূলক নরহত্যার শাস্তি হবে ৩০৪ ধারা অনুসারে যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের কারাদণ্ড।
একটি উদাহারন দেই। মনে করেন, আপনি পিস্তল দিয়ে একটা মানুষকে গুলি করলেন আর যাই হোক বেচারা তো বেচে থাকবে না! আপনি খুন করেছেন।শাস্তি হয় মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন জেল হতে পারে।(৩০২ ধারা)
আবার আপনি শিকার করতে গেলেন। আপনার হাত অনেক পাক্কা!!! আপনি গুলি করলেন লাগল গিয়ে আরেকজনকে!!বেচারা মরে গেল! আপনার শাস্তি হতে হবে তো? আপনার যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের জেল হবে।(৩০৪ ধারা)
২৯৯ ধারা অনুসারে নরহত্যা বলতে বোঝায়, যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যু ঘটানোর মত কোনো কাজ করে বা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, তাহলে সে অপরাধমূলক নরহত্যার জন্য দায়ী হবে। যেমন-
করিম মৃত্যু ঘটতে পারে জেনেও একটি গর্তে আড়াআড়িভাবে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তার উপর ঘাস দেয়। নাসির শক্ত মাটি মনে করে তার উপর হাটতে গিয়ে গর্তের উপর পড়ে যায় এবং মারা যায় । করিম অপরাধমূলক নরহত্যা করেছে।
এবার আসেন খুন হবে কোন কোন কাজ-
৩০০ ধারাঅনুযায়ী খুন হবে-
১. অপরাধমূলক নরহত্যা খুন হবে, যদি কাজটি মৃত্যু ঘটানোর জন্যই করা হয়।
২. যদি এমনভাবে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়, সেটা ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে।
৩. আঘাত যদি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়।
৪. যে কাজটি এমন বিপজ্জনক যে মৃত্যু ঘটবেই।
মাথা গরম করা যাক, খুন যখন নরহত্যায় পরবে
১ নং ব্যতিক্রম,
অপরাধী প্ররোচনার ফলে আকস্মিক উত্তেজনায় আত্মসংযম হারিয়ে ফেলে তার মৃত্যু ঘটায়। যেমন- আপনার ওয়াইফ আপনাকে থাপ্পর দিল, আপনি সহ্য করতে না পেরে বটি দিয়ে দিলেন কোপ। (নরহত্যা)।
মাথা ঠাণ্ডা করেন!!এটারও আবার ব্যতিক্রম আছে,মানে তখন খুন হতে পারে। যেমন-
ক. সে নিজে নিজে প্ররোচিত হতে পারবে না।(খুন)
খ. আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা আইন প্রয়োগ করতে গেলে তা করতে পারবে না।(খুন)
গ. উত্তেজনাটি নিহত ব্যক্তির আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে হবে না।(খুন)
প্রথমত, এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, এমন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত হয়। তৃতীয়ত, ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে হামলা করে। চতুর্থত, অপ্রাকৃতিক লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে হামলা করলে। পঞ্চমত, অপহরণ বা অপহরণ করার উদ্দেশ্যে হামলা করলে। ষষ্ঠত, এমন আক্রমণ এমন যেখানে সে তার মুক্তির জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় নিতে পারে না।
এ ছাড়াও১০৩ ধারা অনুসারে, যদি ডাকাতি, রাতে ডাকাতি, অগ্নিসংযোগ, চুরির ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি থাকে তবে আক্রমণকারীকে হত্যা করা ন্যায়সঙ্গত হবে।
No comments
Post a Comment