কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে মরতে চাইলে বা আত্মহত্যা করার হুমকি দিলে আইনী প্রতিকার

মানব সমাজে চলতে গেলে মান, অভিমান,  ঝগড়া  ইত্যাদির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যখন মান, অভিমান  অনেক বেশি পরিমাণ হয়ে যায়,  তখন   আত্মহননের দিকে মানুষ ঝুঁকে যায়।  আবার অনেকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে অন্যকে ফাঁসাতে চায়। আজকে আলোচনা করব  কেউ আত্মহত্যার হুমকি দিলে  আপনার করণীয় কি?

বিকল্প পরামর্শ
 আত্মহত্যা মহাপাপ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে, সে যেভাবে আত্মহত্যা করবে প্রতিনিয়ত তাকে সেভাবেই শাস্তি প্রদান করা হবে।   যেমন,  মনে করুন,  আপনি বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছেন  আপনাকে  বারবার বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হবে এবং আবার জীবিত করা হবে।
যদি কেউ এরকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যে; সে আত্মহত্যা করতে পারে তাকে অতিসত্বর মানসিক  ডাক্তার দেখানো দরকার।

আত্মহত্যার হুমকি দিলে আপনার করণীয়...

 কখনো কখনো  কোন ব্যক্তি  আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে দেয়  যে,  আমি আত্মহত্যা করে তোমাকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো। এ ধরনের হুমকি খুব মারাত্মক।  দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা অনুসারে  আপনি উক্ত ব্যক্তিকে  আত্মহত্যায় প্ররোচনা করেছেন বলে  আপনার  দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।  এটি সশ্রম বা বিনাশ্রম হতে পারে  এবং  জরিমানা হতে পারে। মৃত্যুকালে প্রদত্ত সুইসাইড নোট  সাক্ষ্য আইনের ৩২  ধারা অনুযায়ী  একটি  উল্লেখযোগ্য  সাক্ষ্য  হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

 তবে  আপনার নিরাপত্তার জন্য  আপনি আগেভাগেই একটি  জিডি করে রাখতে পারেন। আত্মহত্যার হুমকি  দান করাও একটি অপরাধ। দন্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুসারে  কেউ যদি আত্মহত্যার  চেষ্টা করে  তাহলে সেটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে তার  এক বছর পর্যন্ত  বিনাশ্রম কারাদণ্ড  বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।


মো. নুর আলম (রাজু) 
অ্যাপ্রেন্টিস লইয়ার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা। 
অ্যাডভোকেট, 
ঢাকা ও নীলফামারী জেলা জজ আদালত। 
Whatsapp: +8801786792732
 -------------------------------------------------------------------------
 [আইন বিষয়ক আলোচনার উদ্দেশ্য সাধারণ পাঠকদের অবহিত করা যা উকিল পরামর্শের বিকল্প না। আইন সংক্রান্ত সমস্যা জন্য সরাসরি আইনজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত]

No comments

Powered by Blogger.