ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া কে? সমকামী কে? ট্রান্সজেন্ডার, হিজরা ও সমকামীদের উত্তরাধিকার ও ইসলামিক বিধান
ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া বর্তমান সময়ে একটি আলোচিত ইস্যু। ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এর বিরোধিতা করতে গিয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রানজেন্ডার কে? সমকামী কে? আর হিজড়াই বা কে? আবার তাদের ইসলামিক বিধান ও তাদের সম্পত্তির বন্টন কিভাবে হবে? আজকে আলোচনা করব এ বিষয়ে।
ট্রান্সজেন্ডার কে?
অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী ট্রান্সজেন্ডার (Transgender) মানে হচ্ছে, যার লিঙ্গ পরিচয় জন্মের লিঙ্গ পরিচয় এর সাথে মিলে না। সহজ বাংলায় জন্মের সময় ছেলে ছিল, পরে মেয়ে হয়েছে অথবা জন্মের সময় মেয়ে ছিল, পরে ছেলে হয়েছে। বিস্তারিত দেখুন
হিজড়া কে?
হিজড়া শব্দের প্রতিশব্দ হচ্ছে Hermaphrodite. অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী Hermaphrodite অর্থ এমন একজন ব্যক্তি বা প্রাণী যার মহিলা অথবা পুরুষ দুই অঙ্গ অথবা বৈশিষ্ট্য আছে।বিস্তারিত দেখুন
সমকামী কে?
সমকামিতার ইংরেজি প্রতিশব্দ homosexuality. এর বাংলা হচ্ছে সম লিঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণ অর্থাৎ কওমি লুতির মতো, ছেলে ছেলের সাথে এবং মেয়ে মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা।বিস্তারিত দেখুন
ট্রান্সজেন্ডার VS. সমকামী
ট্রান্সজেন্ডার বনাম সমকামিতা বর্তমান সময়ে একটা আলোচিত ইস্যু। দেশের সচেতন নাগরিক, আলেম-ওলামাগণ হিজড়াদের অধিকার নিয়ে কথা বলাকে জোর সমর্থন দিচ্ছেন। কিন্তু তারা আপত্তি জানাচ্ছেন ট্রান্সজেন্ডারের বিষয়ে। যখন ট্রান্সজেন্ডারেরা বলছে আমরা হিজড়াদের মত অধিকার চাই। মূলত সচেতন নাগরিক সমাজ ট্রানজেন্ডার ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য একটি অবান্তর শব্দ মনে করছেন। তাদের যুক্তি হলো, একজন ছেলে মেয়ে হয়ে গেল। সে এখন ট্রান্সজেন্ডার মেয়ে। এখন সে বিয়ে কাকে করবে? অবশ্যই একটি ছেলেকে। তার মানে আলটিমেটলি একজন ছেলে একজন ছেলেকেই বিয়ে করল যা সমকামিতার নামান্তর। সচেতন নাগরিক সমাজের আপত্তি এখানেই।
আশার কথা হল, বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিলেও ট্রান্সজেন্ডাদরে কোন স্বীকৃতি দেয় নাই। কিন্তু তারা বসে নেই।
সমকামীদের উত্তরাধিকার
সমকামিতা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোন কারণ নয়। এর পক্ষে কোন শরীঈ বিধান নেই। তবে এটা একটি খুব জঘন্যতম পাপের কাজ। এর জন্য জিনার মত করে পাথর নিক্ষেপ করে মারার কোন বিধান নেই। তবে তাকে ইসলামী শাসক হত্যা করতে পারবে এবং তার সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মাঝে বন্টিত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যে, যে কওমি লুতের মত কাজ করবে তাকে হত্যা করতে হবে। তবে ওলামাগণের মধ্যে মতের ভিন্নতা রয়েছে, এই ব্যক্তিকে কিভাবে হত্যা করা হবে। তবে সবাই ঐক্যমত যে, তাকে ইসলামী শাসক হত্যা করতে পারবে।
আরো পড়ুন-
ট্রান্সজেন্ডারের উত্তারাধিকার
সমকামীদের যে বিধান, ঠিক একই বিধান ট্রান্সজেন্ডার এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কারন তাদেরকে বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে কোন সুস্পষ্ট হাদিস বা দলিল নেই। বিস্তারিত ফতোয়া দেখুন এখানে
ট্রান্সজেন্ডারের সম্পত্তির অংশ
এখন এই ট্রান্সজেন্ডার ছেলে বা মেয়ে সে কেমন অংশ পাবে? এটা একটা প্রশ্ন। সে কি পূর্বের অবস্থায় সম্পত্তি পাবে? নাকি রূপান্তরিত হওয়ার পরে যেটা হবে সে অনুযায়ী সম্পত্তি পাবে।
এ বিষয়ে ’অ্যাসেম্বলি অফ মুসলিম জুরিস্ট অফ আমেরিকা’ -এর ফতোয়া হল, একজন পুরুষ হরমোন থেরাপির মাধ্যমে মহিলার বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে পারে। কিন্তু সে প্রকৃতপক্ষে মহিলা নয়। এর মাধ্যমে যেহেতু সে ডিম্বাণু বা মহিলাদের মত প্রসবের রাস্তা তৈরি করতে পারে না তাই সে বাচ্চা ধারণ করতে পারবে না। তাই সে মহিলা নয়। একইভাবে একজন মহিলা যদি পুরুষ হতে চায়, ট্রান্সজেন্ডারে মাধ্যমে সে পুরোপুরি পুরুষ হতে পারবে না।
তাই তাদের সম্পত্তির বন্টন হবে আল্লাহ তাদেরকে জন্মের সময় যে আকৃতি দান করেছে সেই অনুযায়ী। অর্থাৎ জন্মের সময় ছেলে হলে ছেলে হিসেবে পাবে মেয়ে হলে মেয়ে হিসেবে পাবে। পরে রূপান্তর হয়ে কি হবে সেটা ব্যাপার না। বিস্তারিত ফতোয়া এখানে দেখুন
পাকিস্তানে অবশ্য ভিন্ন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বলা হয়েছে , সে রূপান্তরিত হয়ে যে লিঙ্গ ধারণ করবে সেই অনুযায়ী সম্পত্তি পাবে। তবে এই ক্ষেত্রে বিতর্ক হল , একজন মেয়ে যেহেতু একজন ছেলের চেয়ে সম্পত্তির দ্বিগুণ পায়, সেক্ষেত্রে অল্প কিছু টাকা খরচ করে জেন্ডার পরিবর্তন করেই ছেলের সমান সম্পত্তি পেতে পারে। যে সমস্যার সমাধান নেই
শেষ কথা হল, হিজড়াদের অধিকার উপেক্ষা করে সমকামীদের অধিকার প্রমোট করার একটা প্রচেষ্টা বাংলাদেশ অনেকাংশে সফলের দিকে।
অ্যাপ্রেন্টিস লইয়ার,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা।
অ্যাডভোকেট,
ঢাকা ও নীলফামারী জেলা জজ আদালত।
Whatsapp: +8801786792732
-------------------------------------------------------------------------
[আইন বিষয়ক আলোচনার উদ্দেশ্য সাধারণ পাঠকদের অবহিত করা যা উকিল পরামর্শের বিকল্প না। আইন সংক্রান্ত সমস্যা জন্য সরাসরি আইনজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত]


No comments
Post a Comment