বাংলাদেশ গঙ্গার পানি পায় না কেন:গঙ্গার পানি বণ্টন
ভূমিকা
নদী স্রষ্টার এক অপূর্ব সৃষ্টি । কিন্তু এই নদী যখন মানুষদের দ্বারা অপব্যবহার করা হয় তখন এই অপূর্ব সৃষ্টির সৌন্দর্য থাকে না। বাংলাদেশ সব সময় চায় ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কিন্তু ভারত এখন অবিভক্ত ভারতবর্ষে মগ্ন তখন তার স্বেচ্ছাচারিতা বাংলাদেশ কে বারবারই বিচলিত করে।
গঙ্গার পানি বন্টন নিয়ে ভারতের সাথে ঝামেলা শুরু হয় ১৯৫১ সাল থেকেই । তখন পাকিস্তান সরকার ভারত সরকারের পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী নদীকে বাঁচাতে গঙ্গা থেকে বিপুল পরিমাণ পানি না নিতে তাদের মতামত জানায়। ভারত তখন ধৃষ্টতার সাথে পাকিস্তানের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই ভারত প্রায় ১৮ কিলোমিটার উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাথে আলোচনা হয়। ১৯৭২ সালে এ নিয়ে একটি যৌথ নদী কমিশন গঠন করা হয়। ১৯৭৪ সালে ঐক্যমত্য হয় যে পানির সুষ্ঠ বন্টন না হওয়া পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়া হবে না।
১৯৭৫ সালে ভারত ১০ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশ সরল বিশ্বাসে তাতে সম্মতি দেয় যা এখনো কাল হয়ে আছে।
ভারতের কাছে ধারণা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে যেন ভারত গঙ্গার পানি বন্টনের জন্য দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করে।
১৯৭৭ সনে জিয়ার শাসনামলে ৫ বছরের চুক্তি করতে ভারত বাধ্য হয়। পরে এরশাদের শাসনামলে আরো পাঁচ বছরের জন্য আরেকটি চুক্তি করা হয়।
বর্তমানে কী হচ্ছে?
নানান চরাই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য বাংলাদেশ ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করে।
চুক্তি হয় নদীতে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে দুই দেশ সমান পানি পাবে। ৭০ থেকে ৭৫ হাজার হলে ভারত ৪০ বাকিটি বাংলাদেশ। তবে ৫০ হাজার হলে দুই দেশ আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশের পানি পরিমাপ করা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে এবং ভারতের হয় ফারাক্কা ব্যারেজের ফিডার ক্যানেলে।
পাকিস্তান যেমন বিশ্ব ব্যাংকের সহায় সহায়তায় ভারতকে পানি চুক্তি করতে বাধ্য করতে পেরেছে । বাংলাদেশ সেরকম কিছু করতে পারবে না কারণ গঙ্গাচুক্তির ৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে য়ৌথ নদী কমিশনকে পাঠানো হবে। এরপরও যদি সমাধান না হয় তাহলে দুই সব দেশের সরকার পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরাম যেমন- WTO World Bank এদের আশ্রয় নিতে পারছে না । বাংলাদেশের হাত বাঁধা মূলত এখানেই।
এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু তারপরও কি বাংলাদেশে এই চুক্তি আবার নবায়ন করবে সেটা সময়ের প্রশ্নই বটে।
অ্যাপ্রেন্টিস লইয়ার,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা।
অ্যাডভোকেট,
ঢাকা ও নীলফামারী জেলা জজ আদালত।
Whatsapp: +8801786792732
-------------------------------------------------------------------------
[আইন বিষয়ক আলোচনার উদ্দেশ্য সাধারণ পাঠকদের অবহিত করা যা উকিল পরামর্শের বিকল্প না। আইন সংক্রান্ত সমস্যা জন্য সরাসরি আইনজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত]

No comments
Post a Comment