ছাত্র ছাত্রীদের প্রহার করার শরিয়া ও আইনী বিধান Punishment of Student

  ছাত্র ছাত্রীদের প্রহার করতে পারবেন কি? শরিয়া ও আইন কী বলে?

সন্তান মানুষ করতে পিতামাতার সাথে সাথে  শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য । শিক্ষকরাও ছাত্র ছাত্রীদের নিজ সন্তানের হিসেবে  দেখার চেষ্টা করে যান। তবে অবস্থা বিবেচনায় শাস্তি প্রহার করেন। ছাত্র ছাত্রীদের প্রহার করা নিয়ে শরিয়া ও দেশের আইন কী বলে তা নিয়ে আলোচনা করব আজ।

শরীয়া আইনে প্রহার

Islam.QA সালেহ আল মুনাজ্জিদ পরিচালিত ওয়েব সাইটে শাইখ আবদ আল-রহমান ইবন জিবরীন বলেন, শিক্ষকেরা ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি সদয় ও নম্র আচরণ করবে এটাই কাম্য। তবে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হালকা প্রহার করা যাবে। তিনি আরো বলেন খারাপ আচরণ করা এবং সম্মান প্রদর্শন না করা মূর্খদের অভ্যাস।
আরো লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-
১. শাসন বোঝার মতো বয়স হওয়ার আগে শিশুর সঙ্গে কঠোর ব্যবহার না করা।
২. বয়স ১০ অতিক্রম হলে সালাত না আদায় করলে শাসন করা যাবে।
৩. হাত দ্বারা শাস্তি দিতে হবে। তবে লাঠি, বেত ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না।
৪. একবারে তিনের বেশি প্রহার না করা।
৫. স্পর্শকাতর স্থানগুলো যেমন—চেহারা, মাথা ইত্যাদিতে শাস্তি না দেওয়া।
৬. ক্ষত বা দাগ পড়া কিংবা হাড়ে আঘাত লাগার মতো শাস্তি না দেওয়া।
সুতরাং শরিয়া ছাত্র ছাত্রীদের প্রহারে নিরুৎসাহিত করে। তবে প্রয়োজনে হালকা শাসন করা যেতে পারে।

Further Reading

আইন কি বলে?

সংবিধানের ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন মানুষকে যন্ত্রনা  দেওয়া যাবে না। কোন  নিষ্ঠুর, অমানুষিক এবং লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া যাবে না  ব্লাস্ট, আসক বনাম বাংলাদেশ মামলার নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা-সংক্রান্ত নীতিমালা- ২০১১’ প্রনয়ন করেন। যেখানে নিম্ন লিখিত শাস্তি দেওয়া যাবে না-
ক) হাত-পা বা কোনো কিছু দিয়ে আঘাত বা বেত্রাঘাত,
খ) চক বা ডাস্টার ছুড়ে মারা,
গ) আছাড় দেয়া ও চিমটি কাটা,
ঘ) কামড় দেওয়া,
ঙ) চুল টানা বা চুল কেটে দেওয়া,
চ) হাতের আঙুলের ফাঁকে পেনসিল চাপা দিয়ে মোচড় দেওয়া ,
ঘ) ঘাড় ধাক্কা দেয়া,
ঙ) কান টানা বা ওঠবস করানো,
চ) চেয়ার, টেবিল বা কোনো কিছুর নিচে মাথা দিয়ে দাঁড় করানো বা হাটু গেড়ে দাঁড় করে রাখা,
ছ) রোদে দাঁড় করে বা শুইয়ে রাখা কিংবা সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড় করানো এবং
জ) ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে এমন কোনো কাজ করানো যা শ্রম আইনে নিষিদ্ধ।

এমনকি মা-বাবা, বংশ,বর্ণ, গোত্র ও ধর্ম নিয়ে অশালীন কথা,অশোভন অঙ্গভঙ্গি করা  যাবে না। 

Also See

শাস্তি:

যদি কোন শিক্ষক  উপরের কোন একটি কাজ  করে  তাহলে সরকারি কর্মচারী  বিধিমালা, ১৯৮৫ যেটা পরে ২০১৮ সালে সংশোধিত হয়,সে অনুযায়ী করা  বিচার  করা  যাবে। যেখানে বরখাস্তসহ  জরিমানা আরোপের বিধান  আছে। যারা সরকারী শিক্ষক নন তাদের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত ফৌজদারী  ব্যবস্থায়  বিচার হবে



1 comment

Anonymous said...

Otherwise

Powered by Blogger.